তারা বলেন, ‘রাষ্ট্র-সমাজ ও গণতন্ত্রের যেকোনো সঙ্কট থেকে উত্তরণে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীকে অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। তার দর্শনের ভিত্তিতে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আজকে আমারা যে গভীর গভীর সংকটে আছি, তা কাটিয়ে উঠতে আমাদের অবশ্যই মাওলানা ভাসানীকে অনুসরণ করতে হবে। তার দর্শন নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। মওলানা ভাসানী বাঙালি চেতনার এক অভিন্ন নাম। বাঙালি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার দুটি স্রোতধারার মিলিত একটি মোহনা।’
নেতৃদ্বয় ১৭ নভেম্বর মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ভাসানী ছিলেন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির জ্বলন্ত প্রতীক। সমগ্র জাতিকে ‘খামোশ’ বলে ধমক দিতে পারতেন, শাসন করতে পারতেন এমন একজন মানুষ। তখন যিনি জাতির নেতা ছিলেন, তাকেও শাসন করতে পারতেন। জুলুম আর জালেমের বিরুদ্ধে মজলুম গণমানুষের কণ্ঠস্বর ছিলেন মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মওলানা ভাসানী। তিনি চিরজীবন শোষিত শ্রেণীর মুক্তির পক্ষে আন্দোলন সংগ্রাম করে গেছেন।’
মওলানা ভাসানীই প্রথম পাকিস্তানকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে বাংলার মানুষের মনে স্বাধীনতা বীজ বপিত করেছিলেন বলে দাবি করে তারা আরও বলেন, ‘আজীবন মজলুম মানুষের মুক্তির জন্য যিনি লড়াই করেছেন তিনিই হলেন মওলানা ভাসানী। তার কাছে জালিমের যেমন কোনো জাত-ধর্ম থাকত না, তেমনি মজলুম মানুষ কোনো ধর্মের, দেশের, বর্ণের, পেশার সেটা তিনি বিন্দুমাত্র ভাবতেন না। তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে অনেক বড় হয়েছেন, ব্যতিক্রম হয়েছেন এইজন্যই যে, তিনি থাকতেন সর্বহারাদের মাঝে, স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির কাছে। তিনি চিরকাল শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন এ দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে।’