ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরে মিমাংসা করার কথা বলে বাড়িতে ডেকে এনে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করতে গিয়ে শেষ রক্ষা হলো না জাহাঙ্গীরের। নিজের পাতানো ফাঁদেই আসামি হলেন তিনি ও তাঁর সহযোগীরা। এ ঘটনায় আজ (৩১ জুলাই) ভোরে চক্রান্তের মূল হোতা মোঃ হালিমকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার ১নং বুলাকীপুর ইউপির দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের মৃত বছির উদ্দিন ওরফে বসু মিয়ার ছেলে।
গত শুক্রবার (২৯ জুলাই) উপজেলার ১নং বুলাকীপুর ইউপির ভেলাইন নামক গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
জানাযায়, গত আট বছর পূর্বে ভেলাইন গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের সাথে বিয়ে হয় হোসনেয়ারার। এমতাবস্থায় ৩ বছর সংসার করার পর হোসনেয়ারাকে একতরফা ভাবে তালাক দেয় জাহাঙ্গীর। এর কিছুদিন পর জাহাঙ্গীর ছলে বলে কৌশলে হোসনেয়ারার সাথে আবারও সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং তার কাছে থেকে প্রতি মাস বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নিতে থাকে। কিন্তুু এই সম্পর্কটাও বেশি টিকে না। এর এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর তার ঘনিষ্ঠ সহযোগি মাদক কারবারি হালিমের সাথে পরিকল্পনা করে মিমাংসার কথা বলে হোসনে আরাকে ঢাকা থেকে ঘোড়াঘাটে নিয়ে আসে।
ঘটনার দিন শুক্রবার বিকাল ৫ টার দিকে হোসনেয়ারা ও তার নানা উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারের রাহমানিয়া হোটেলে হালিমের সাথে দেখা করে। পরে কথা বলা শেষ করে সকলে মিলে রওনা হন ভেলাইন গ্রামের উদ্দ্যেশে। সেখানে আরও এক ঘনিষ্ঠ সহযোগি করিমের বাড়িতে মিমাংসায় বসলে করিম মিয়া ও তার স্ত্রী মিলে কৌশলে হোসনেয়ারার ভ্যানিটিব্যাগে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকে দেয় এবং হালিম কে জানায় কাজ হয়ে গেছে। পরে হালিম, করিমের বাড়িতে এক মহিলা ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে বিক্রির জন্য এসেছে মর্মে পুলিশকে মুঠো ফোনে জানায়। খবরটি পাওয়া মাত্রই পুলিশ করিমের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে হোসেনেআরার ব্যাগ চেক করে ৪০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট পায়। এসময় ওই বাড়িতে থাকা অন্যান্যরা পালিয়ে যায়। পরে হোসনেআরা ও তার নানাকে থানায় নিয়ে আসা হয়।
ঘটনাটি আসলে কি হয়েছিল হোসনেয়ারার মুখে তার বিস্তারিত শোনার পর ওসি আবু হাসান কবিরের সন্দেহ হলে, এসআই জিয়াউর রহমান, এসআই নূর আলম কে সঙ্গে নিয়ে দুই দিন ধরে ছাঃয়া তদন্ত করে জানতে পারেন যে, একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারির দল চক্রান্ত করে হোসনেয়ারাকে ফাঁসিয়েছেন। তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে চক্রান্তকারিরা সকলে মাদক ব্যবসায়ী, তাদের পূর্বেরও অনেক মাদক মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু হাসান কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই রাত একদিন অনুসন্ধানের পর ঘটনার সত্যতা প্রমান পাই যে, ভূক্তভোগী ওই নারীকে এক দল মাদক কারবারি ফাঁসিয়েছেন। যদি তদন্ত না করে শুধু মাত্র তথ্যের উপর ভিত্তি করে ওই নারীকে আসামি করা হত তাহলে সারা জীবনের জন্য মাদক মামলার আসামি হতো ওই মহিলা আর লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যেত আসল দুস্কৃতীকারীরা। অনেক চেষ্টার পর ঘটনার মূল হোতাকে আজ ভোরে আটক করা হয়েছে এবং ওই মহিলার সাবেক স্বামী জাহাঙ্গীর সহ আরও কয়েক জন কে আসামি করে একটি মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।