||মো. মহসিন রেজা, শরীয়তপুর||
শরীয়তপুরের চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৩ ও ৪ নভেম্বর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা পরিদর্শন করে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিলে ৮ নভেম্বর সোমবার ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব আতিয়ার রহমান এ সংক্রান্ত চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসার, সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে পূনঃতফসিল ঘোষনা করে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান জানিয়েছেন, নির্বাচন স্থগিত হওয়ার খবর কমিশনের উপ-সচিব মোবাইল ফোনে আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, চিতলিয়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সদস্য ও ৩টি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে পছন্দের লোকদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করতে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগের (নৌকা) চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে। এরপরই নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব (আইন) মো. মাহাবুবার রহমান ও কমিশনের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. আবু ইব্রাহীম গত ৩ নভেম্বর ও ৪ নভেম্বর শরীয়তপুরে তদন্ত শেষ করেন। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ইসি চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, চিতলিয়া ইউপিতে ১১ নভেম্বর ভোট হওয়ার কথা ছিল। ওই ইউপিতে ৪৮ প্রার্থী সদস্য পদে এবং ১২ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন এবং তাদের মনোনয়ন বৈধ বলে গণ্য হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৯ জন সাধারণ সদস্য ও ৯ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে তাদের মনোনয়নপত্র গত ২৬ অক্টোবর ‘প্রত্যাহার করে নেন’। তবে ২৭ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দের দিন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেননি, তবে মনোনয়ন প্রত্যাহার হয়ে গেছে এ অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রচার হয়।