নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর অকেজো গাড়ির ডাম্পিং প্লেজ করে পথচারীদের জায়গায় অবৈধ ফুটপাত বসিয়ে রমরমা ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। কাঁচপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল (শিল্প অঞ্চল) হিসেবে গার্মেন্টস্ কর্মী পথচারীদের পথচলায় নানামূখী প্রশ্নশর্তে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এবং গার্মেন্টস্ ছুটি কালিন সময় হাজার হাজার সাধারণ শ্রমিকদের ফুটপাত দিয়ে চলাফেরায় ব্যাপক হারে বিঘ্ন ঘটে থাকে। গার্মেটস্ শ্রমিকরা মহাসড়কের উপর একটু খানি চিপা জায়গা থেকে চলতে গেলে নানা সময়ে দুর্ঘটনার স্বীকার পোহাতে হয়। এধরনের অবৈধ ফুটপাতের উপর দোকানপাট বসিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে অবৈধ ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন হাইওয়ে পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, সিন্হা গার্মেন্টস্’র অপজিট লাভলী হল থেকে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পর্যন্ত প্রায় চার হাজারেরও বেশি অবৈধ ফুটে দোকানপাট রয়েছে। সে সকল প্রতি ফুটে দোকান প্রতি দৈনন্দিন পুলিশের নেতৃত্বে ‘‘১’শ টাকা’’ হারে চাঁদা উত্তালন করেন। লাভলী হল থেকে সোনারগাঁ পরিত্যক্ত পাম্প এলাকায় চাঁদা উত্তালনকারী রয়েছেন চাঁদাবাজ বাবুল ও জিয়া এবং সোনারগাঁ পরিত্যক্ত পাম্প থেকে হাইওয়ে থানা পর্যন্ত চাঁদা উত্তালনকারী রয়েছেন অভিযুক্ত চাঁদাবাজ মনির। আবার এধরনের ফুটপাতের মধ্যে অনেক পুলিশ কর্মকর্তাদের আত্মিও স্বজনদের দোকানপাটও রয়েছে। তাঁরা দাপট খাটিয়ে বীরদর্পে ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এবং প্রতিটি গাড়ির ষ্ট্যান্ড থেকে মাসিক মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেন ওসি।এধরনের ফুটপাতে প্রকাশ্য পুলিশ ব্যবসা বাণিজ্য করাতে, স্থানীয় এলাকার দলীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও তাঁদের থেকে মাথা উঁচু করতে সম্ভব হয়ে ওঠেনা। কারণ হাইওয়ে থানায় প্রতিটি ওসি যোগদান কারার পরপরই তার মতো করে অসৎ উদ্দেশ্য হাঁসিল করার লক্ষে, তারা নিজেদের ‘‘টার্গেট ফিলাপ’’ করার লক্ষে কোটি টাকার ব্যালেন্স গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে দুই বছরের মেয়াদে আপন শক্তিতে ব্যবসায় লিপ্ত থাকেন পুলিশ। সুতরাং এধরনের ‘গাজিপুর রিজিয়ন জোন’ কাঁচপুর হাইওয়ে থানা একটি গুরুত্বপূর্ণ থানা হিসেবে আসার পিছনেও ডজনে ডজনে পুলিশের ওসি প্রায় অর্ধকোটি টাকার ব্যালেন্স উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে সিরিয়ালে এসে চাকরি করতে হয় তাঁদের।
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক ফুটপাত ব্যবসায়ীরা বলেন, ভাই আমরা প্রতিটি ফুটে দৈনন্দিন ১০০’শ টাকা চাঁদা দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করে, পেটের জন্য দুটি ডাল-ভাতের জন্য অর্থ উপার্জন করে থাকি। এবং ফুটপাতে কম-বেশি টাকা দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যেতে হয়। ফ্রি ভাবে কেহই দোকান বসতে দিবেনা।
নিয়মিত সাধারণ পথচারী শফিক,তুহিন,রাকিব,আলামিনসহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জনে বলেন, ভাই আমরা এই পথ দিয়ে নিয়মিত ভাবে আসা-যাওয়া করতে হয় অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে। কারণ সড়ক দিয়ে পথচলা করতে গেলে দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হয়। বছরে বছর জুড়ে সড়কপথ আক্রিয়ে ফুটপাতে ব্যবসা করেন পুলিশ। মহাসড়ক হয়ে গেছে এখন ডাম্পিং প্লেজ। এবং পথচারীদের জায়গা জুড়ে বসেছে জমজমাট ফুটপাত ব্যবসা। এবং অনতিবিলম্বে সড়ক থেকে অকেজো গাড়ি সরিয়ে জায়গা ক্লিয়ার করা হউক বলে মনে করেন তাঁরা।
এবিষয়ে হাইওয়ে থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, রাস্তা ছাড়া আমাদের আর কোথাও গাড়ির রাখার জায়গা নেই। বরং রাস্তা তথা মহাসড়কের উপারেই গাড়ি রাখতে হবে। এবং ফুটপাত ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে তিনি কথা বলতে রাজি নন। তিনি বলেন, যা করেন ভেবে চিন্তেই করেন। আমি আর কিছু বলবো না বলে জানান তিনি।
গাজিপুর রিজিয়ন হাইওয়ে এসপি আলী আহমদ খান মুঠোফোনে বলেন, ইতিপূর্বে হাইওয়ে ওসি মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আরও একটি দুর্নীতির অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। এটারও এখন পর্যন্ত তদন্ত চলছে। এবং আপনার মাধ্যমে যে ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এধরনের তাঁর বিরুদ্ধে সুক্ষ্য প্রমাণাদিসহ তথ্যে আমাকে দেন, তাকে সঠিক ভাবে আইনগত ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো বলে জানান তিনি।