নরসিংদী প্রতিনিধিঃ
নরসিংদীতে মোহাম্মদ জব্বর মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে উপর্যুপরি কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় মামলা করায় তাঁর ছেলে ও ভাতিজাকেও তুলে নিয়ে উপর্যুপরি কোপিয়ে চোখ তুলে ফেলে। জব্বর মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করে বাড়ি ফিরছিল ওই দুজন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রায়পুরার আমিরগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার ছন্দা সিনেমা হলের সামনে থেকে তাদের দুজনকে তুলে নেন ১০/১২ ব্যক্তি। পরে পার্শ্ববর্তী আদিয়াবাদ এলাকার নির্জন একটি বিলের ধারে নিয়ে হাত, পা ও মুখ বেঁধে উপর্যুপরি কুপিয়ে চোখ তুলে চলে যায় তারা। আহতদের একজন মুঠোফোনে কল করে ঘটনা স্বজনদের জানালে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে রাত ২টার দিকে ঘটনা¯’ল থেকে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় আহত দুজন হলেন, সদর উপজেলার চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ জব্বর মিয়ার ছেলে আমিরুল মিয়া (২৪) ও ভাতিজা এমরান হোসেন (১৭)। তাদের দুজনের শরীরের অন্তত ২০-২৫ জায়গায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এ সময় আঙুল দিয়ে গলিয়ে দেওয়ায় এমরানের ডান চোখ পুরোপুরি নষ্ট ও আমির“লের বাম চোখ ক্ষতিগ্র¯’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। তারা দুজন বর্তমানে রাজধানীর পঙ্গ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহতদের স্বজনরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে নরসিংদী শহরের বড় বাজারে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছিলেন মোহাম্মদ জব্বর মিয়া এ সময় তাকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে নেয় ৪/৫ জন দুর্বৃত্ব। পরে তাকে নরসিংদী- মদনগঞ্জ সড়কের ৫ নাম্বার ব্রীজ এলাকার একটি নির্জন ¯’ানে নিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে পালিয়ে যায় তারা। পরে ¯’ানীয় লোকজন তাকে আশঙ্কাজনক অব¯’ায় উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের ভর্তি করে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে । পরে তাঁর ছেলে আমিরুল ও ভাতিজা এমরান মামলা করার জন্য আসেন নরসিংদী মডেল থানার। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহত মোহাম্মদ জব্বর মিয়া ছেলে আমির“ল বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেন। এতে ¯’ানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন সরকার দীপুসহ ১০ জনের নামে এবং অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামী করা হয়।
নরসিংদী মডেল থানা থেকে বেরিয়ে এমরানকে সঙ্গে নিয়ে আমির“ল সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নিজগ্রাম আলোকবালীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ৯টার দিকে রায়পুরার আমিরগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার ছন্দা সিনেমা হলের সামনে পৌঁছার পর আগে থেকে উৎ পেতে থাকা ১০-১২ জন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন। পরে তাদের তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী আদিয়াবাদ এলাকার নির্জন একটি বিলের ধারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাত, পা ও মুখ বেঁধে উপর্যুপরি কুপিয়ে এবং একটি করে চোখ গলিয়ে দিয়ে তারা চলে যায়। ওই অব¯’ায় আমির“ল তার মুঠোফোন থেকে কল দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ঘটনা জানান। রায়পুরা থানা পুলিশের সহযোগিতায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত ২টার দিকে তাদের ওই অব¯’ায় বিলের ধারে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার জর“রি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের রাতেই ঢাকা পঙ্গ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালটিতে তাদের চিকিৎসা চলছে।
আহত আমির“লের মামা জয়নাল আবেদীন সরকার জানান, বৃহস্পতিবার আমার দুলাভাই জব্বর মিয়া কোর্টে হাজিরা দিয়ে এসে নরসিংদী বাজারে ঈদের কেনাকাটা করছিলেন। তাকে এবং পরবর্তীতে তাঁর ছেলে ও ভাতিজাকে আবার তুলে নিয়ে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন সরকার সরাসরি জড়িত। গতকাল রাতে তাকে প্রধান আসামী করে মামলা করায় তিনি তাঁর লোকজন নিয়ে দ্বিতীয় দফায় আবার দুইজনকে কুপিয়ে আহত করেছেন।
তিনি আরও জানান, আপাতত তাদের দুজনকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শারীরিক পরিস্থিতি একটু স্থিতিথীশীল হলে পরে তাদের চোখের চিকিৎসা করানো হবে। এই ঘটনায়ও আমরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রায়পুরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ জানান, গতকাল রাত ২টার দিকে আদিয়াবাদের একটি বিলের ধার থেকে সারা শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কারা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করতে পুলিশি তদন্ত শুর“ হয়েছে। আশা করছি, দ্র“ত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারবো আমরা।