আমিরুল ইসলাম কবিরঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ২নং হোসেনপুর ইউনিয়নে করতোয়া নদীর বিভিন্ন স্পট থেকে দীর্ঘদিন ধরে আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে প্রশাসনের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে একটি বালু খেকো চক্র। সেইসাথে রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাঁটিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের তোয়াক্কা করেনা তারা।
এছাড়াও এলাকার একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা একের পর এক এবং নানা অপকর্ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত এ চক্রটি। তাদের এমন অপকর্মের ধারাবাহিকতায় ইতিপূর্বে বন্যায় ভেঙে যাওয়া বাঁধ ঘেঁষে পূনরায় ড্রেজার মেশিন সেট করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কিশামত চেরেঙ্গা গ্রামে ইতিপূর্বে বন্যার সময় ভেঙে যাওয়া করতোয়া বাঁধের কোল ঘেঁসে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে ওই গ্রামের আবুল কালাম আজাদের পুত্র আল মাহমুদ কায়েস। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কায়েস জানায় আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি নিয়ে বালু উত্তোলন করছি এবং দাপটের সাথে বলে আপনাদের যা করনীয় আছে সেটা করেন।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসী জানায়,ইতিপূর্বে বন্যার সময় বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার কারণে বেশ ক’টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। পরে কোটি টাকার বেশি খরচ করে বর্তমান সরকার বন্যানিয়ন্ত্রণ রক্ষা বাখধটি সংস্কার করেন। তারা আরও বলেন ভেঙে যাওয়া যায়গা থেকে বালু উত্তোলন করলে আবারও ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।
২নং হোসেনপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুল আমিন মন্ডল টিটু জানান অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীর বিরুদ্ধে অবশ্যই অভিযোগ দায়ের করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান নয়ন সাংবাদিকদের বলেন,অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
গাইবান্ধা (পাউবো)’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন,ভেঙে যাওয়া যায়গা থেকে বালু উত্তোলন করার কোনো নিয়ম নেই।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান মুঠোফোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শেষে,বালু উত্তোলনকারী আল কায়েস ও তার তিন ভাই সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং তেড়ে এসে মারপিট করার উপক্রম হয।
এ ব্যাপারে পলাশবাড়ী প্রেস ক্লাব যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাব্বত সরকার বাদী হয়ে পলাশবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন।