নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের হাসপাতালগুলোতে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করে সুচিকিৎসা নিশ্চিতসহ ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে নিরাপদ হাসপাতাল চাই (নিহাচ) নামের একটি সামাজিক সংগঠন।
শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির সমন্বয়ক এফ এ শাহেদ এর সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন─ মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী, রাহাত হুসাইন, মনজুর হোসেন ঈসা, শাহরিয়ার সোহাগ, ধ্রুব চৌধুরী, আল-আমিন বিন আলীসহ আরও অনেকে।
মানবন্ধনে এফ এ শাহেদ বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও, স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক অধিকার আজও নিশ্চিত হয়নি। এশিয়াসহ প্রায় ৬০টি দেশের মধ্যে সব থেকে বেশি চিকিৎসা খরচ বহন করতে হয় আমাদের। জায়গা-জমি বিক্রি করে, সঞ্চয় ভেঙ্গে, ঋণ করে চিকিৎসা খরচ জোগাতে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতি বছর দরিদ্র হচ্ছে। এরপরও মানুষ তার নিরাপদ চিকিৎসা পাচ্ছে না। নারী রোগী, তার স্বজন থেকে শুরু করে, নারী চিকিৎসকরাও যৌন নিপীড়নের স্বীকার হয় সহকর্মি, ওয়ার্ডবয় ও দালালদের মাধ্যমে। সরকারি হাসপাতালগুলো দালালদের একটি নিরাপদ ব্যবসাস্থলে পরিণত হয়েছে।
মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী বলেন, সুচিকিৎসা পাওয়া এটা মানুষের মৌলিক অধিকার। দেশের হাসপাতালগুলোতে আর যেনো কোনো রোগী হয়রানির শিকার না হয়, সঠিক চিকিৎসা পায় সেজন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্শন করছি। বর্তমান সরকার পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশে মেট্রো রেল ও সড়ক নির্মাণসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন বর্তমান সরকার। এর সাথে যখনই কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা শক্ত হাতে দমন করেছেন। আশা করি আজকের এই দাবি গণ মানুষের স্বার্থে আমলে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করবে সরকার।
এ ছাড়াও মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে শক্তিশালী স্বাস্থ্য অবকাঠামো থাকলেও তার সেবার মান ভঙ্গুর। কমিনিউনিটি ক্লিনিক থেকে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা এতটাই নাজুক, যেকোনো গুরুরত অবস্থায় রোগীর সার্পোট দেবার সক্ষমতা তাদের নেই। এক্স-রে, আল্ট্রাস্নো, ইসিজি, সিটিস্কান থেকে শুরু করে প্যাথলজির মত কমন জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই হাসপাতালগুলোতে। আর এর ফায়দা লুটে বেসরকারি হাসপাতালগুলো।
এ সময় আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে সুচিকিৎসা ও নিরাপত্তায় পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো; দালাল মুক্ত ও রোগীবান্ধব হাসপাতাল গড়া, প্রতিটি জেলা সদরে আইসিইউ, সিসিইউ চালুসহ আসন বৃদ্ধি করা, রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও যৌন নিপীড়ন বন্ধ করা, প্রতিটি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ও হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা নিশ্চিত করা।