নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি ভবন), কাকরাইলে আলোচনা সভা ও দেশি-বিদেশি ৭৫ জন চিত্রশিল্পী, ৭৫টি চিত্রকর্মের ওপর নির্মিত থ্রিডি ভার্চুয়াল চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। থ্রিডি ভার্চুয়াল চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। আলোচনা সভায় তিনি বলেন, এ দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তিনি আমাদের সাহসের সোনালী দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। বাড়িয়ে দিয়েছেন এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস। তাই তো আজ বিশ্বসভায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে বঙ্গবন্ধুর দুঃখিনী বাংলা।বাংলাদেশ আজ বিশ্ব মানচিত্রে অর্জনের সোনালী প্রাণে অদম্য গতিতে ছুটে চলা এক ধাবমান অশ্ব। শেখ হাসিনা জেগে থাকেন বলেই বাংলাদেশ আজ নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারে। তিনিই হচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, সততা ও স্বচ্ছতার অনুপম উদাহরণ। সরকারপ্রধান হয়েও সাধারণ জীবনযাপন তাকে করে তুলেছে অসাধারণ। মির্জা ফখরুল এবং বিএনপি নেতাদের স্মরণ করিয়ে দিতে বলেন আমরা যখন নিরপেক্ষ সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিলাম, তখন বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন পাগল আর শিশু ছাড়া আর কেউ নিরপেক্ষ নয়। আজ ফখরুল সাহেবসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ পাগল আর শিশু মিলিয়ে একটা প্রস্তাব পাঠান। কারণ পাগল আর শিশু ছাড়া তো কেউ নিরপেক্ষ নয়। এটা আপনাদের নেত্রীই বলেছেন। তাহলে পাগল আর শিশু দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করুন। এ প্রস্তাব আপনারা পাঠান। রাষ্ট্রপতিকে মানবেন না, সার্চ কমিটি মানবেন না; রাষ্ট্রপতির এ অধিকার আছে সার্চ কমিটি করে নির্বাচন কমিশন গঠনের। যারা এটাকে অসাংবিধানিক বলছেন তারা সত্যের বিকৃতি করছেন। সংবিধানবিরোধী কথা বলছেন। নির্বাচনে আপনারা আসুন, আমরা চাই। এখন থেকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন- আপনারা নির্বাচন করবেন না। নির্বাচন বয়কট করবেন। কেন? হেরে যাওয়ার ভয়ে আগেই কি হেরে যাচ্ছেন? নির্বাচন এখনো দুই বছরের বেশি বাকি। আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন! আপনাদের আন্দোলনে এ দেশের মানুষ সাড়া দেবে কি? মানুষ আপনাদের সাথে আছে? ১৩ বছর তো আন্দোলন করলেন। দেখতে দেখতে ১৩ বছর, মরা গাঙ্গে জোয়ার আসেনি। ভবিষ্যতে আসবে কি-না আমরা জানি না। এদেশের মানুষ জানেনা কারণ মানুষ আপনাদের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। নির্বাচনে আসুন স্বাগতম। কিন্তু নির্বাচন করতে দিবেন না, এই দম্ভোক্তির জবাব বাংলার জনগনকে দিয়ে আমরা দেব।নির্বাচন না করলে সেটা আপনাদের ব্যাপার! কিন্তু নির্বাচন ঠেকাতে যাবেন! সেটা কিন্তু বাংলার জনগন সহ্য করবে না। বিএনপি আসবে না তাই বলে নদীর স্রোত বন্ধ থাকবে না! তাই বলে সময়ের গতি বন্ধ থাকবে না!সময় আর স্রোত যেমন বন্ধ থাকে না! নির্বাচনও বন্ধ থাকবে না। নির্বাচন যথাসময়ে সংবিধান অনুযায়ী হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জননেতা কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে না আসলে আমরা হারিয়ে যেতাম।সুদান ইয়েমেনের মত সন্ত্রাসী তকমা থেকে দেশকে রক্ষা করেছেন তিনি। বিশ্ব সভায় দাঁড়িয়ে তিনি সকলের জন্য করোনা ভ্যাকসিনের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্বের নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের অধিকারের কথা উচ্চারিত হয় জননেত্রী শেখ হাসিনার মুখে। আমাদের সকলের উচিত শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া। কিভাবে লড়াই করতে হয়, কিভাবে একটি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, কিভাবে দেশ, দলকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়তে হয়, কিভাবে দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্য কাজ করতে হয়। আমরা তা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিখেছি। অন্যায় অবিচার,দূর্নীতি, দুস্কর্ম থেকে নিজেদের বিরত রেখে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জননেতা নির্মল রঞ্জন গুহ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জননেতা আফজালুর রহমান বাবু। আরও বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের সহ সভাপতি তানভির সাকিল জয় এমপি,ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি কামরুল হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদ, বিজয় আর্ট গ্যালারির কিউরেটর মাহমুদা আস্ সাফরা মিম, থ্রিডি চিত্র প্রদর্শনীর সহযোগিতায় ছিলেন জাকির হোসেন ও আয়েশা আহমেদ, লাইভ ছবি অংকন করেন ঢাকা আর্ট কলেজের শিল্পী আনামুজ জাহিদ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।