মো. মহসিন রেজা, শরীয়তপুর:
শরীয়তপুর বাস মালিক ও শ্রমিকদের দ্বারা থ্রী- হুইলার (সিএনজি) অটোরিকশা চালকগনকে জেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলের সময় মারধর, গাড়ি ভাংচুর, নির্যাতনের প্রতিবাদে চালক ও মালিকরা। এসময় জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। ১৪ জুন সোমবার সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয় শত-শত সিএনজি অটোরিকশা চালকগন, তারা বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান এর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন শরীয়তপুর জেলা থ্রি-হুইলার সিএনজি অটোরিক্সা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দরা। তাদের দাবি, বর্তমান সরকারের চলমান উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষে উন্নত যানবাহন থ্রী-হুইলার/ অটোরিকশা (সিএনজি) এল.পি.জি/ পেট্রোল চালিত পরিবহন আমদানি করা সরকারের পরিকল্পনা একটি অংশ। শহর- উপশহর এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের জনসাধারণের যাতায়াত ব্যবস্থার মান উন্নয়নের লক্ষে জ্বালানি সাশ্রয়ী পরিবহন হিসেবে এল.পি.জি চালিত থ্রী-হুইলার (সিএনজি) মেকার্সকোড বরাদ্দের মাধ্যমে জনগণের নিকট বিক্রয় করা হয়। বিক্রয়কৃত থ্রী-হুইলার মালিকগন বি.আর.টি. এর নির্ধারিত এ্যাসেসমেন্ট চালান ফরমে ব্যাংকে চালান জমা দিয়ে আসছে, যাহা রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রধান ও অন্যতম অংশ। আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ জেলা প্রশাসকের নিকট রেজিষ্ট্রেশন ও রুট পারমিটের আবেদন করে আসছি। আমাদের রেজিষ্ট্রেশন ও রুট পারমিট না থাকায় রাস্তায় চলাচলে নানা রকম বাঁধা ও মামলা এবং বাস মালিক সমিতি কতৃক হামলার স্বীকার হয়ে আসছি। বাস মালিক ও শ্রমিকদের বর্ণিত অহরহ ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুন ২০২১ তারিখে থ্রী-হুইলার চালকগনকে বিভিন্ন রাস্তায় চলাচলের সময় শরীয়তপুর বাস মালিক ও শ্রমিকরা মারধর ও গাড়ি ভাংচুর করে, শারীরিক ও আর্থিকভাবে বিপুল পরিমাণে ক্ষতি সাধন করে। আমরা যারা থ্রী-হুইলার চালাই তারা অত্যন্ত নিন্ম আয়ের শ্রমিক। আমরা কিস্তির মাধ্যমে গাড়ি ক্রয় করে আমাদের পরিবারের ভরণপোষণ ও কিস্তি প্রদান করে থাকি। এর মাধ্যমে উপার্জিত যৎসামান্য রোজগার দিয়ে আমরা আমাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। দীর্ঘদিন যাবৎ বাস মালিক শ্রমিকদের অত্যাচরে আমাদের এই অটোরিকশা দ্বারা পরিবারের ভরণপোষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। যদি এই অবস্থা বিরাজমান থাকে তাহলে আমাদের ভবিষ্যতে পরিবার পরিজন নিয়ে পথে নামতে হবে। বাস মালিক ও বাস শ্রমিকগন তাদের হীন লোভ লালসা চরিতার্থ করার নিমিত্তে আমাদের রোজগারের পথে যে ক্রমাগত বাঁধার সৃষ্টি করে আসছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। মানববন্ধনে শরীয়তপুর জেলা থ্রি-হুইলার সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এড. আজিজুর রহমান রোকন তার বক্তব্যে বলেন, শরীয়তপুর জেলা জুড়ে ৬শ’র বেশি থ্রি-হুইলার সিএনজি, অটো রিক্সা রয়েছে, এই গাড়ীগুলো বৈধভাবে আমদানীকৃত। এ গাড়ী চালিয়ে হাজার হাজার নীরিহ গরীব মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে কিন্তু শরীয়তপুরের বাস মালিক-শ্রমিকদের অত্যাচার মাত্রা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় আজ আমরা গাড়ি রেখে রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করতে বাধ্য হয়েছি। আজ থেকে যদি আমাদের আর কোনো এক শ্রমিক ভাই গাড়ী চালাতে গিয়ে সড়কে নির্যাতন কিংবা ক্ষতির শিকার হয় তাহলে আমরা আগামীতে আরো কঠোর আন্দোলনে যাবো। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, থ্রী- হুইলার (সিএনজি) অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এড.আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক খান এ মো.রুবেল, থ্রি হুইলার সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এড.আজিজুর রহমান রোকন, সাধারণত সম্পাদক মো. মনির হোসেন, সহ সভাপতি কে.এম রাসেল খান, এড. শহিদুল ইসলাম সজিব, শ্রমিক নেতা মো. তোতা মহলদার, রিপন খান, হাসেম বেপারী, মাসুদ খানসহ শরীয়তপুর জেলার সকল সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকগন।