আমিরুল ইসলাম কবিরঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ১ গৃহবধু্ূর লাশ উদ্ধার করেছে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়,গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার বৈরীহরিণমারী গ্রামের মাহাবুব মিয়ার কন্যা শারমিন আক্তার মাফিয়া (১৮)’র দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার খোদাদাতপুর (ভোতরা দিঘীপাড়া) গ্রামের ইনতাজ আলীর ছেলে ইউসুফ আলীর সাথে ১ মাস ৩ দিন পূর্বে বিয়ে হয়। গত বুধবার ইউসুফ আলী তার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে শ্বশুরবাড়ী থেকে নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসে।
বিয়ের পর থেকেই কৌতুক লোভী স্বামী ইউসুফ স্ত্রী শারমিনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে আসছিলো বলে নিহত শারমিনের পরিবার দাবী করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মার্চ বুধবার ইউসুফ তার স্ত্রী শারমিনকে পলাশবাড়ী পৌর শহরের বৈরীহরিণমারী গ্রাম থেকে ফুসলিয়ে ঘোড়াঘাট নিজ বাড়িতে নিয়ে এসে পুনরায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালায়।
এক পর্যায়ে গত ১৭ মার্চ বৃহস্পতিবার শারমিন আক্তারের গলায় ওড়না দিয়ে পেচানো বৈদ্যুতিক সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে শারমিনের লাশ উদ্ধার করে।
ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আবু হাসান কবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,একটি (আনইউজুয়াল ডেথ) ইউডি মামলা রুজু করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
আজ শনিবার শারমিন আক্তার মাফিয়ার লাশ ময়না তদন্ত দিনাজপুর থেকে সকালে পলাশবাড়ী পৌর শহরের বৈরীহরিণমারী গ্রামে এসে পৌছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরে জোহর নামাজ শেষে শারমিন আক্তার মাফিয়ার নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
শারমিন আক্তার মাফিয়ার এহেন মৃত্যুতে তার পিতামাতা,ভাই বোন সহ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।