নিজস্ব প্রতিবেদক:
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার ওসি মাদক মামলার আসামীকে টাকার বিনিময়ে ‘হাতকড়া’ পরাননি। এমন সুযোগ পেয়ে বিভিন্ন অপরাধের সাথে যুক্ত থাকা আসামী মুন্না পুলিশের গাড়ি থেকে লাফ মেরে পালিয়ে যান। এমতাবস্থায় পুলিশের গাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পাঁচ ঘণ্টা পর আবারও গ্রেফতার করেছেন মো. মাছুম ওরফে মুন্না (২৩) নামে এক আসামিকে।
অনুসন্ধানে, (ওসি) মাসুম ভান্ডারিয়া থানায় যোগদান করার পরপরই নানা প্রকার অনিয়ম এর সাথে যুক্ত রয়েছেন। অবৈধ অর্থের বিনিময়ে সাধারণ লোকজনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ব্যাপক ভাবে হয়রানি। আসামী রিমান্ডের নামে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ। চুরি-ডাকাতি, পরিবহণ ও মাদক ব্যবসায়ীদের থেকে মোটা অংকের মাশোহারা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যাপক অভিযোগ গড়ে উঠেছে। এবং টাকা দিলে ওই ধরনের আসামীর মতো ‘হাতকড়া’ মুক্ত থাকে। যা স্থানীয় এলাকার সাধারণ জনগণ তাঁর আতঙ্কে মূখ ফুটে নারাজ হয়ে পড়েছেন।
এলাকাবাসীর মতে, ভান্ডারিয়া থানা এলাকায় ওসি যেই আসে, সেই ব্যাপক দুর্নীতি-অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পরে। যা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও বিষয়টি কোন প্রকার আমলে নেয় না। তাঁদের মতে, ভান্ডারিয়া থানার ওসি “সৎ-যোগ্য ও নির্ভীক একজন কর্মকর্তা প্রয়োজন বলে সাংবাদিকদের জানান।
জানাগেছে, গত শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ শিয়ালকাঠী মল্লিক বাড়ির বাগান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মুন্না ভান্ডারিয়া থানার তেলিখালী গ্রামের আব্দুল হক হাওলাদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
দায়িত্বরত ডিউটি পুলিশ জানায়, মাসুম ওরফে মুন্নাকে গ্রেফতারের পর শনিবার গাড়িতে করে পিরোজপুর আদালতে নিয়ে যাচ্ছিল। পথে বেলা ১১টার দিকে সে পুলিশের গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সাড়াশি অভিযান চালিয়ে বিকেল ৪টার দিকে ভান্ডারিয়ার দক্ষিণ শিয়ালকাঠী মল্লিক বাড়ির বাগান থেকে তাকে ফের গ্রেফতার করে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত ঢাকাসহ এলাকার বিভিন্ন জায়গায় চুরি ও মাদকসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
ভান্ডারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান জানান, চুরি ও মাদক মামলার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করতে নিয়ে যাওয়ার সময় পিকআপ থেকে সে লাফিয়ে পালিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
এবিষয়ে ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুমকে মুঠোফোনে জানার চেষ্টা করলে। তাকে কোন প্রকার পাওয়া যায়নি।
পিরোজপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, চুরি মামলার আসামিকে আদালতে নেওয়ার পথে পালিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে পুনরায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহীমকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।