আব্দুল হালিম নিশাণ♦♦
অমর একুশে বইমেলা-২০২৪ নান্দনিক পরিবেশে গড়ে উঠেছে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রায় এক হাজারেরও ঊর্ধ্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বরদ্দ বইয়ের স্টল।
বছর ঘুরে ফের এসেছে বাঙালীর প্রাণের বইমেলা। ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকে বাংলা একাডেমির আয়োজনে বসে এই মেলা আসর। দিন যত যাচ্ছে, বইপ্রেমীদের ভিড়ও তত বাড়ছে। প্রতিবারের মত মেলায় পুরোনো বইয়ের পাশাপাশি স্থান পাচ্ছে নতুন বইও।

গতকাল (২৭ ফেব্রুয়ারি) মঙ্গলবার ৮০টি নতুন বই মেলায় স্থান পেয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত নতুন বইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ শতাধিক। বাংলা একাডেমি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে, মেলার শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় তিন হাজারের অধিক নতুন বই এসেছে।তেমনি বেড়েছে নতুন লেখকেরও সংখ্যা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই বইমেলা চলবে ফেব্রুয়ারির ২৯ তারিখ পর্যন্ত। ২৫ দিনে বইমেলায় লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের মহা মিলনমেলা বসেছে।
এবারের বইমেলায় ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯৩৭টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমির মাঠে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি স্টল বরাদ্দ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত বছর ৬০১টি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মোট ৯০১টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।

১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সামনে পাটের চটের ওপরে মাত্র ৩২টি বইয়ের পসরা সাজিয়ে স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ বইমেলার যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৯৭৩ সালের ১৫ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি বিশেষ ছাড়ে নিজেদের বই বিক্রির ব্যবস্থা করে। এর পাশাপাশি একাডেমির প্রাঙ্গণে বেশ কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বই বিক্রি শুরু করে।
১৯৭৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় সাহিত্য সম্মেলনের বই প্রদর্শনী ও ম্যুরাল প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন।
শুরুতে বইমেলা হতো ২১ দিন ধরে। ১৯৮১ সালে এটি কমিয়ে ১৪ দিনের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও প্রকাশক ও পাঠকদের দাবির মুখে তা আবার ২১ দিনে ফিরিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সাল থেকে পুরো মাসজুড়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাঙালির এ প্রাণের বই মেলা।
Tags: বইমেলার