নরসিংদী প্রতিনিধি :
সুজন সাহা (২৬) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে নরসিংদী সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। নরসিংদী সদর উপজেলার হাজীপুর গ্রামের অজিত সাহার ছেলে সুজন সাহাকে গত সোমবার গভীর রাতে পুলিশ গ্রেফতার করতে তার বাড়ীতে অভিযান চালায়। এসময় সে বাড়িতে ছিল না। পুলিশ তার বাবার কাছ থেকে মোবাইল নাম্বার নিয়ে সুজনের সাথে কথা বলে তাকে সকাল ১০টার মধ্যে থানায় হাজির হতে বলে। পরে পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবার ভোরে হাজীপুর এলাকায় একটি চানাচুর ফ্যাক্টরী থেকে তাকে আটক করে। পরে তাকে সেখান থেকে থানায় নিয়ে আসার পথে হাড়িধোয়া নদীর নিকট পৌছলে সে নদীতে ঝাপ দেয়। এতে সে নিখোঁজ হয়। পরে সকাল ৮টায় মৃত অবস্থায় জাল দিয়ে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এব্যাপারে নিহত সুজনের বাবা বলেন, তার ছেলেকে পুলিশ গ্রেফতার করে চানাচুর ফ্যাক্টরীর ভিতের নিয়ে পুলিশ এবং ফ্যাক্টরীর লোকজন ব্যাপক মারধোর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে থানায় নেয়ার পথে হাড়ীধোয়া নদীর নিকট পৌছলে এক পর্যায়ে তাকে নদীতে ফেলে দেয়। পরে তিনি স্থানীয় লোকজন ও জেলেদের জাল দিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় তার লাশ নদী থেকে উদ্ধার করে। তিনি এ ঘটনার জন্য দাবী পুলিশ ও ফ্যাক্টরীর লোকজনদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন। নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওগাতুল আলম জানান, সুজন সাহার বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানাসহ বিভিন্ন থানায় খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানী, চাঁদাবাজী, মাদক দ্রব্যসহ ১২/১৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাজীপুর এলাকার একটি চানাচুর ফ্যাক্টরী থেকে তাকে আটক করে। পরে তাকে থানায় নিয়ে আসার পথে এক পর্যায়ে সুজন পুলিশ কনস্টেবল মাইন উদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করে এবং অপর পুলিশ কনস্টেবল মোফজ্জলকে কামড়িয়ে আহত করে হ্যান্ডকাপসহ দ্রুত পালিয়ে যায়। এসময় পুলিশও তার পিছু ধাওয়া করে। পুলিশের তারা খেয়ে সুজন পাশর্^বতী হাড়িধোয়া নদীতে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে তাকে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সহযোগিতায় নদী থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।