মশিউর বাবু, নীলফামারীঃ
বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিশাল অংশ নারী। তাই, উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে নারীদের সম-সুযোগ ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একান্ত অপরিহার্য। গৃহস্থলী কাজের বাইরেও আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের অবদান অপরিসীম।
বিশেষ করে নীলফামারীর জলঢাকায় কৃষিকাজসহ জাতীয় উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নারীদের অবদান এক অনবদ্য অধ্যায়ে পরিনত হয়েছে।
বর্তমানে জলঢাকা উপজেলার নারীরা কৃষি কাজের পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ, কুটির শিল্প ও হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন উৎপাদনমূখী কর্মকান্ডে ভূমিকা রেখে চলেছেন। উপজেলার দরিদ্র পরিবারের নারীরা অন্যের জমিতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করাসহ পরিবারের আর্থিক অনটন দূরীকরণে এসব নানামুখী উন্নয়নমূলক কাজ করছেন।
আর বর্তমানে পুরুষ শ্রমিকদের চেয়ে সহজলভ্যে প্রাপ্ত মহিলা শ্রমিকদের চাহিদা তাই দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে উত্তরের এই অবহেলিত জনপদে।নারীরা কাজে পুরুষদের সমপরিমান কাজ করলেও মজুরি বৈষম্যের শিকার হওয়ায় উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া এলাকার নারী শ্রমিক তাহেরা ও জয়নব বলেন, আমরা গরীব আমাদের কোন জমি না থাকায় অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করে আসছি এবং বলতে গেলে কৃষিকাজই এখন আমাদের প্রধান পেশা ।
কিন্তু জলঢাকায় কৃষিকাজে ও উন্নয়নে নারীরা ভালো কাজ করলেও পুরুষদের তুলনায় নারী শ্রমিকরা কম মজুরি পেয়ে থাকেন বলে অভিযোগ করে উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরভরট পাড়ার নারী শ্রমিক রানী রায় বলেন, আমরা জমিতে ধান লাগানো, আগাছা পরিস্কার, ধান কাটা মাড়াইসহ সকল কাজ পুরুষদের সমান করলেও মজুরী কম পেয়ে থাকি।
একজন পুরুষ যেখানে দিনে কাজ করে ৪০০ টাকা মুজুরী পান সেখানে একজন মহিলা শ্রমিক সমান শ্রম দিয়েও মজুরি পান ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। তাই এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন এলাকার নারী শ্রমিকরা অবিলম্বে তাদেরকে কৃষি শ্রমিক হিসেবে সাংবাধানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদানসহ নায্য মজুরি নিশ্চিত করার দাবী জানান।