ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জ্যৈষ্ঠের শুরুতে দিনাজপুরের প্রতিটি অঞ্চলের লিচুবাগানে লাল রঙের আভা ছড়িয়ে পরতে শুরু করেছে। সেই সাথে বাজারেও এসেছে এসব লিচু। তবে সময় হওয়ার পূর্বেই লিচুর রাজ্য দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় দেখা মিলছে এসব অপরিপক্ক আগাম লিচুর। তবে স্বাদে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও, সৌন্দর্যে নজর কেড়েছে ক্রেতাদের। পুরোপুরি পরিপক্ক হয়নি এসব লিচু। স্বাদে টক, আকারে মাঝারি, ভেতরের আটিও বড়, দামও বেশি। এরই মধ্যে বাজার দখল করতে শুরু করেছে এই লিচু।
গত এক সপ্তাহ ধরে ঘোড়াঘাট উপজেলার অনেক বাজারেই দেখা মিলছে এইসব লিচুর। অনেকে বেশি লাভের আশায় ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই বাজারে নিয়ে আসছেন অপরিপক্ক এ লিচু। তবে মৌসুমের ফল হিসেবে ক্রেতাদের কাছে এ লিচুর অনেকটা চাহিদাও রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ড, আজাদমোড়, পুরাতন বাজার ও ওসমানপুর বাজারে অবস্থিত বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কের দুই পাশের ফলের দোকানগুলোতে লিচুর পসরা সাজিয়ে বসে আছেন মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীরা। সবুজ পাতার নিচে মোড়ানো কাঁচা-পাকা সবুজ-লাল আভার মাদ্রাজি ও চায়না-৩ জাতের লিচু। লিচুর পসরা সাজানো এসব দোকানে আগাম লিচু দেখে ভিড় জমাচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
প্রতি ১০০ লিচুর দাম হাঁকা হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত, প্রতি পিস হিসেবে যার দাম আসছে দুই টাকা পঞ্চাশ পয়সা থেকে তিন টাকা পর্যন্ত।
ক্রেতারা বলছেন, “স্বাদ হয়ত খুব একটা ভালো হবে না তারপরও বছরের নতুন ফল হিসেবে কিছু লিচু কিনেছি।” আবার কেউ না কিনেই ফিরে যাবার সময় বলছেন, এসব লিচু অপরিপক্ক। লিচুর ভিতরে বড়বড় বিচি ছাড়া মাংস নেই। টাকা দিয়ে এসব লিচু কেনা মানে বোকামি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, পুরো উপজেলায় লিচু চাষে জড়িত আছেন প্রায় ৬৬০ জন চাষী। উপজেলায় প্রায় ৬৩ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়। ছোট-বড় মিলিয়ে লিচুর বাগান রয়েছে প্রায় ১৬০টি। এসব বাগান থেকে বছরে প্রায় ৪৫২ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয়।
ফল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘আমরা ফল ব্যবসায়ী যখন যে ফল বাজারে ওঠে তাই বিক্রি করি। এ সময়ে আটি লিচু বাজারে উঠায় টক হলেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অন্যদিকে লিচু বাগান লিজ নেয়া কিছু ব্যাবসায়ীর দাবি, এ বছর লিচুর ফলন নেই বললেই চলে। আমরা যারা লিচুর চাষ করেছি, তাদের লোকসান ছাড়া লাভের কোন সম্ভাবনা নেই।
ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এখলাস হোসেন জানান, কয়েকদিন পর থেকে প্রায় সব জাতের লিচু পাকা শুরু হবে। তবে কিছু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার লোভে রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগ করে অপরিপক্ক লিচুর রং পরিবর্তন করে বাজারে বিক্রি করছে। আমরা বাজার তদারকি করছি, কেউ এরকম করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।