এস এম আরিফুল ইসলাম জিমন◊◊
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে চাঞ্চল্যকর হত্যা চেষ্টা মামলার রায়ে আসামি রবিউল ইসলামকে ১৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৯ মাসের কারাভোগের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার সকালে এ রায় প্রদান করেন দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালত-৩ এর বিচারক সাদিয়া সুলতানা। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর আদালতের পিপি এডভোকেট মো. রবিউল ইসলাম ও আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো.মনিরুজ্জামান।
মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট আব্দুস সামাদ(১)। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন পিপি এডভোকেট রবিউল ইসলাম ও এপিপি রঞ্জিত কুমার।
পাবলিক পসিকিউটর এডভোকেট মো. রবিউল ইসলাম জানান, হত্যা চেষ্টা মামলার একটি ধারায় ১০ বছরের কারাদন্ড সহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাস কারাদন্ড এবং অপর একটি ধারায় ৩ বছরের কারাদন্ড সহ ৩ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।
পাবলিক পসিকিউটর আরও জানান, দিনাজপুরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে প্রথম থেকে মামলার কার্যক্রম পরিচালিত করা হয়েছে। পরে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৩ আদালতে হস্তান্তর করা হয়। সেখানেই গত ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। এ মামলায় ৫৩ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২০ ইং সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে সরকারি ডাক বাংলোয় ঘোড়াঘাটের সাবেক ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। ৩ সেপ্টেম্বর সকাল আটটায় তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের অবস্থার অবনতি হলে হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকার জাতীয় নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে হস্থান্তর করা হয়। এ ঘটনায় ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইউএনও ওয়াহিদার ভাই শেখ ফরিদ ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় ১১ সেপ্টেম্বর রাতে বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের বিজোড়া গ্রামের খতিব উদ্দীনের ছেলে ও ঘোড়াঘাটের ইউএনওর বাসভবনের চাকুরিচ্যুত কর্মচারী রবিউল ইসলামকে আটক করে র্যাব। এ ঘটনা সেময়ের টক অব দ্যা কান্ট্রিতে রূপ নেয়। এ ঘটনার পর সারাদেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরাপত্তার জন্যে কার্যালয় ও বাসভবনে আনসার মোতায়েন করা হয়।