শেখ সাখাওয়াত হোসেন,পাবনা◊◊
পাবনা জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, পাবনা জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে।
সোমবার (৯ জানুয়ারি) ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। কুয়াশার পরিমাণটা তুলনামূলকভাবে কমলেও পরবর্তীতে তা অব্যাহত থাকবে।
সোমবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, গতকাল দুপুর থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় সূর্যের দেখা মিলেছিল। তবে আজকে সকাল থেকেই ঢাকাসহ প্রায় সারাদেশেই সূর্যের দেখা মিলেছে। আপাতত আগামী দুই দিন সূর্যের আলো পাওয়া যাবে। এজন্য তাপমাত্রাও গত কয়েকদিনের তুলনায় একটু বাড়তি থাকবে।
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান আরো জানান, সর্বশেষ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেতুলিয়ায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। এ ছাড়া আগামী একদিনে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।
পৌষের প্রথম সপ্তাহের পর থেকেই উত্তরের জেলা পাবনায় হাড় কাঁপানো ঠান্ডা শুরু হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে দেশের উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে। গত কয়েক দিন ধরে জেলাজুড়ে বইতে থাকে শীতল হাওয়া। যার ফলে শ্রমজীবী মানুষ চরম বিড়ম্বনার সম্মুখীন হন। তবে গতকাল থেকে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে।
ভোরের আলো উঠা শুরু করলেই কুয়াশায় ফিরে আসে যেন শীতের ছবি। গরম কাপড়ের দোকানে বেড়েছে মানুষের সমাগম। সকাল-সন্ধ্যা, শীতের পোশাকেও মানুষ কাঁপছে। সন্ধ্যায় শহরে পোড়া কাগজের আগুনে হাত গরম করতে দেখা যায় লোকজনকে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় নেমে আসে ঘন কুয়াশা। গত কয়েক দিনে পাবনায় এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
পাবনার ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ জানান, উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকাল থেকে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে।
জেলায় কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা কমলেও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় চাহিদা আছে গরম কাপড়ের। পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অস্থায়ীভাবে গড়ে উঠা ফুটপাতের মার্কেটগুলোতে বাড়ছে শীতবস্ত্রের বিক্রির পরিমাণ। শীত থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পোশাক কিনছেন নিম্নআয়ের মানুষ। গরম কাপড় কেনা-বেচা হচ্ছে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। সারাদিনই দোকানে ক্রেতার ভিড় লেগেই থাকছে।
পুরাতন ও নতুন সোয়েটার, জ্যাকেট, শার্ট ও ট্রাউজারসহ কাপড়ের দোকানে গরম কাপড়ের সরবরাহ বাড়ছে। ফুটপাতের দোকানগুলো এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকে। ফুটপাতের দোকানগুলোতে শীতের কাপড় কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ।