নিজস্ব প্রতিবেদক◊◊
নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো: নবীর হোসেনের বিরুদ্ধে জব্দ করা ২০টি গাড়ি সরানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত (১০ অক্টোবর) সোমবার বিকালে কাঁচপুর সাগর ফিলিংস্ পাম্প সংলগ্নে রুপায়ন গ্রুপের জলাশয় একটি বাউন্ডারির মধ্যে ওসির নেতৃত্বে এক পুলিশ কনস্টেবল ফেরদৌস ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের পরিচয়দানকারি লিটন খানের শেল্টারে বিভিন্ন শ্রেণীর ২০টি গাড়ি বিদ্যুৎ ইলেকট্রিক মেশিনের সাহায্য দিয়ে কেটে ফেলার দৃশ্য দেখাগেছে।
কাঁচপুর থানা এলাকার সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, কাঁচপুর মসজিদ মার্কেট সংলগ্নে পথচারীদের জায়গা দখল করে বছরের পর বছর পড়ে আছে বিভিন্ন প্রকার শ্রেণী ভুক্ত পরিত্যক্ত জব্দকৃত গাড়ি। এ সকল জায়গায় তাঁরা শত শত গাড়ি নিজস্ব ডাম্পিং প্লেজ বানিয়ে গাদাগাদি করে রাখেন। এমনকি গাড়ি রাখার জায়গা না থাকার কারণে; কাঁচপুর মেইন পয়েন্ট থেকে চট্টগ্রাম রুটের হাইওয়ে থানা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার ব্যাপি সড়কের একটি লেন দখল করে গাড়ি রাখার চিত্র দেখাগেছে। এতে নানা সময়ে ভোগান্তির সৃষ্টি হয় সাধারণ পরিবহণ যাত্রীদের। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওসি; নিরাপত্তা বিহীন জব্দকৃত গাড়ি সরিয়ে ফেলে। বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্রি করে দেন।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, থানার মালখানা হিসেবে বিভিন্ন মামলায় বর্তমানে প্রায় ৪ শতাধিক গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এখান থেকে দীর্ঘ বছরের পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে থাকা মালিকানা বিহীন গাড়ি। যেমন- শ্রাবণ বাস, ডিস্টিক ট্রাক ঝালকাঠি-(ট) ১১-০১১১, কভার্ড ভ্যান, পিকআপ ও লড়ি পরিবহণ সহ প্রায় ২০টি গাড়ি সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ গাড়ি সরিয়ে নিয়ে কাঁচপুর সাগর ফিলিংস্ পাম্প সংলগ্নে একটি রুপায়ন গ্রুপ প্রজেক্টের বাউন্ডারির মধ্যে নিয়ে নিরিবিলি জায়গা পেয়ে কেটে ফেলার দৃশ্য পাওয়া গেছে। এমন অবৈধ কর্মকাণ্ডে রুপায়ন গ্রুপের গেইট লগ করে, হাইওয়ে থানা ওসির নেতৃত্বে পুলিশ কনস্টেবল ফেরদৌস ও আওয়ামীলীগ নেতা লিটন খানের সঙ্গে ২/৩ জন লোক উপস্থিত পাওয়া গেছে।তাঁদেরকে বিজ্ঞাসাবাদ করলে, তাঁরা বলেন সকল কিছু ওসি স্যার জানেন।
জানাগেছে, অকশন বা টেন্ডার বিহীন ২০টি গাড়ির মধ্যে দুটি গাড়ি উপহার দিয়েছেন লিটন খানকে ওসি। এবং ১৮টি গাড়ির মালামাল বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও লিটন খানের হয়ে বিক্রি করতে হয়েছে। সুতরাং ২০টি গাড়ির মূল্য আনুমানিক প্রায় ৮০ লক্ষ্যে টাকা সুলভ মূল্য হারে বিক্রি করা হয়। এধরনের অবৈধভাবে সরকারি তালিকা ভুক্ত গাড়ি; আদালতের আইনী তোয়াক্কা না করে। পুলিশের ঊর্ধ্বতনকে ম্যানেজ করে, সকল অর্থ আত্মসাৎ করার গুঞ্ছন ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক ৩/৪ জন লোক সাংবাদিকদের জানান, সরকারি ভাবে বিভিন্ন প্রকার শ্রেণীভুক্ত জব্দকৃত গাড়ি ‘শ্রাবণ বাস, ডিস্টিক ট্রাক, লড়ি, কভার্ড ভ্যান ও পিকআপ সহ প্রায় ২০টি গাড়ি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এ গাড়ি নিয়ে রুপায়ন গ্রুপের একটি প্রজেক্টের মধ্যে নিরিবিলি জায়গা পেয়ে কেটে কেটে বিক্রি করে দেন ওসি। নিলাম বিহীন গাড়ি কেটে টুকরো টুকরো করে বিক্রয় করা কিভাবে সম্ভব। এটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা।
শেল্টারদাতা লিটন খান জানান, ভাই আমি পুলিশকে ভালো বেসে, ওসি নবীর স্যারকে সহযোগীতা করেছি। তিনি কয় টাকা বেতন পান। এধরনের টুকিটাকি বিষয় করতে একটু সুযোগ দেন। এ নিউজ করা প্রয়োজন নেই! তিনি অত্যন্ত একজন ভালো মানুষ। তাঁর এই কাজে আমি সহযোগীতা করাতে; আমাকে দুটি গাড়ি উপহার দিয়েছে বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো: নবীর হোসেন জানান, আমি মাত্র ৪টি গাড়ি বিক্রয় করছি। এটার বৈধতা আছে। ২০টি গাড়ি বিক্রয় করিনি।আদালতের গাড়ি নিলাম বিক্রয়ের অর্ডার চিঠি চাইতে গেলে; তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে। সাংবাদিককে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা লিটন খানকে দিয়ে নিউজ বন্ধের হুমকি প্রদান করেন।এমন নানা ভাবে অপকৌশল প্রয়োগ করে সংবাদ বন্ধের পায়তারা।
এবিষয়ে গাজীপুর রিজিয়ন হাইওয়ে পুলিশ সুপার মুঠোফোনে জানান, ভাই আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমি বিষয়টি অবগত ছিলাম না। তবে বিষয়টি যেনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
Tags: কাঁচপুর